

🔹অনেক রাতে আমাদের জন্য ঘরের ব্যবস্থা করা হল।জানানো হল গন খাবারের ব্যবস্থা আছে। কুপন দেখিয়ে খেতে হবে। কোন এক প্রতিষ্ঠান খাবার স্পন্সর করেছে। কোথায় গিয়ে খাব, কুপনই বা কোথায় পাব কিছুই জানিনা। শাওন বলল, ‘চল বাইরে চলে যাই,
ম্যাকডোনাল্ডের হামবার্গার খেয়ে আসি’। আমি খুব উৎসাহ বোধ করছি না। প্রথমত অনেক রাত হয়ে গেছে, ম্যাকডোনাল্ড খুঁজে বের করা সমস্যা হবে। দ্বিতীয়ত নিউইয়র্ক খুব নিরাপদ শহরও নয়।
আমাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করলেন ব্যান্ড তারকা জেমস্। নিজেই খাবার এনে দিলেন, আর কিছু লাগবে কিনা অতি বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন। আমি তার ভদ্রতায় মুগ্ধ হয়ে গেলাম। তাকে বললাম আপনার মা গানটা আমি শুনেছি, মা নিয়ে সুন্দর গান করলেন।শাশুড়িকে নিয়ে গান করেননি কেন? প্রায়ক্ষেত্রেই দেখা গেছে শাশুড়িরা জামাই কে মায়ের চেয়েও বেশি আদর করে। আমার কথা শুনে ঝাকড়া চুলের জেমস্ কিছুক্ষণ আমার দিকে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে হঠাৎ হোটেল কাঁপিয়ে হাসতে শুরু করলেন। এমন প্রানময় হাসি আমি অনেকদিন শুনি নি।
( রকসম্রাট গুরু জেমস্ কে নিয়ে কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের মজার স্মৃতিচারন)
[📗:ভ্রমনকাহিনী,পৃষ্ঠাঃ১০৯।]
দেশবরেণ্য কথাসাহিত্যিক, প্রিয় নির্মাতা হুমায়ুন আহমেদের জন্ম দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা । DHN
Leave a comment